বর্তমান সময়ের কয়েকটি ক্ষতিকর কুখ্যাত সাইবার ক্রাইম টুল
ফিশিং স্প্যাম
এর মাধ্যমে মূলত ব্যাংক নোটিশ, ট্রাংক নম্বর ইত্যাদি স্পামের মাধ্যমে প্রেরণ করে গ্রাহকদের আকৃষ্ট করে তাদের তথ্য লুট সহ ব্যাংক একাউন্ট হতে অর্থ লুট করা হয়। ফিশিং স্প্যাম মূলত মেইলের মাধ্যমে গ্রাহকের তথ্য চুরি করে অর্থ কামিয়ে নেয়।
স্টক স্প্যাম
বিগত কয়েক বছরে নতুন একধরনের স্প্যাম ওয়েব নিয়ে সাইবার অপরাধীরা ব্যাপক তৎপর তা হলো স্টক স্প্যাম। এর মাধ্যমে অপরাধীরা গ্রাহকদের বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ার কিনতে অনুপ্রাণিত করে এবং নিজেরা এসব পয়সা হাতিয়ে নেয়। ৫২ বছর বয়স্ক এলওন গত এক বছরে চাইনিজ স্টকের নামে প্রায় মিলিয়ন মিলিয়ন স্পাম মেইল পাঠিয়ে গ্রাহকদের ঠকিয়েছে। সিকিউরিটি ও এক্সচেঞ্জ সংস্থা সমূহ এসব নিয়ে কাজ করলেও লক্ষ লক্ষ অপরাধী এখনও ধরা ছোঁয়ার বাইরে।
ডিডিওএস (ডিস্ট্রিবিউটেড ডেনিয়েল অব সার্ভিস)
ফিশার ও ডাটা চোররা যখন পারে তখন ডাটা চুরি করে। তাদের বহুল প্রচলিত ডিডিওএস এর মাধ্যমে বিভিন্ন সফটওয়্যার লুকিয়ে গ্রহকদের পিসিতে ঢুকিয়ে দেয়া হয় এবং এর মাধ্যমে তথ্য চুরি করে। মে মাসে ১৯ বছরের ফিমিত্রি গুজনার তার এহেন অপকর্মের স্বীকার করেন, সে কিভাবে বিভিন্ন সায়েন্স ওয়েব থেকে তথ্য লুট করে তা স্বীকার করেছে।
সটিং
সটিং হলো অপরাধীদের নির্ধারিত ব্যক্তিদের ফোনের একাউন্টে অনুপ্রেবেশ করে ফোন একাউন্টের তথ্য নিয়ে কোম্পানিসমূহের তথ্য ও কোম্পানির কর্মকর্তাদেরও তথ্য চুরি করা হয়। এর মাধ্যমে তারা গ্রাহক, ব্যক্তির ফোন ব্যবহার করে পুলিশকে ফোন দিয়ে বলা হয় যেন সোয়াত টিম পাঠিয়ে তার সমস্যা সমাধান করে এবং এতে আক্রান্ত ব্যক্তি অযথাই হেনস্তা হন।
অভ্যন্তরীণ ডাটা চুরি
অনেকেই ইউএসবির মাধ্যমে বিভিন্নভাবে পরিচিতজনদের তথ্য চুরি করে বিক্রি করে দেয় হ্যাকারদের কাছে। এর ফলে রিবুলো নামের একজন ধরা খেয়ে এখন ৫ বছরের সাজা প্রাপ্ত।
পরিচয় সংক্রান্ত তথ্য চুরি
পরিচয় ও ব্যক্তিগত তথ্য চুরির জন্য বেশি জ্ঞানী হতে হয় না। শুধু আগ্রহী হয়ে একটু গবেষণা করলেই হয়। মূলত জন ডাটাবেজ হতে তথ্য নিয়ে কোন এক ‘লক্ষ্য’ ব্যক্তির যাবতীয় তথ্য নিয়ে যেকোনো একটি নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রশ্নের সঠিক উত্তর হ্যাকের মাধ্যমে প্রদান করে, ব্যাংকের কাছে আবেদন করে আক্রান্ত ব্যক্তির একাউন্ট হতে অর্থ তুলে লুট করা হয়।
এডওয়্যার
যদিও এডওয়্যার এখন তেমন ব্যাপক নয়, তবুও অপরাধীরা এখন এর মাধ্যমে করছে হাজার হাজার অপরাধ। লুটে নিচ্ছে মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার। এডওয়্যারের মাধ্যমে সহজে লক্ষ লক্ষ পিসি’তে ঢুকে সহজেই লক্ষ লক্ষ পিসি হ্যাক করা যায়। এ কাজ করে ৫ বছরের জেল হয়েছে ২১ বছরের বরার্ট মেথিউ-এর। অবশ্য এডওয়্যারে যারা ব্যাপক সংঘবদ্ধ এবং এ কাজ তারা একত্রিতভাবে টার্গেট করে, ফলে ব্যর্থতা কম, বরং ফলপ্রসূ।
নকল সফটওয়্যার
নকল সফটওয়্যার পরিবেশন ও বিক্রি একটি সাধারণ অপরাধ। যা সহজেই করা যায়। প্রতিদিন সফটওয়্যার নকল করার মাধ্যমে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার লেনদেন হয় এবং এক্ষেত্রে আয়ও অন্যান্য যেকোন অপরাধের চেয়ে বেশি, ঝুঁকিও কম। বিশ্বের বহু দেশে এখন ব্র্যান্ডের আইটেম সমূহ নকল করে বিক্রি হয় এবং সবাই তা ব্যবহারও করছে। সাইবার অপরাধীদের ব্যাপ্তি এখন সর্বত্র। ডিজিটাল যুগের সাইবার অপরাধীরা হলো ডিজিটাল অপরাধী, এদের দমন সত্যিই কষ্টসাধ্য হবে।
পরিশেষে বলা যায় মানব কল্যাণের পাশাপাশি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ধ্বংসের বিষদাঁতটাও কম ধাঁরালো নয়। আমাদের সর্বাধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি এমনই এক ক্ষতিকর দিক হলো সাইবার বুলি। সাইবার বুলি সম্পর্কে সংক্ষেপে বলতে গেলে যখন কেউ তথ্য আদান-প্রদানের মাধ্যমকেও (যেমন : মোবাইল, মেসেজ রিসিভার, ইমেইল) ব্যবহার করে নানান হুমকি প্রদান করে। এটি আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর ছাপিয়ে আমাদের দেশেও কার্যকর। এই জন্য এখনই পদক্ষেপ নেয়া জরুরি।
0 comments:
Post a Comment